বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : বরিশালের উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১২ কোটি টাকার প্রকল্প ভাসছে নদীতে। বরাদ্দ না পাওয়াকে দুষছেন কর্মকর্তারা। ৫০ কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হতে পারে উজিরপুর সাতলা সড়ক। ইতিমধ্যে সন্ধ্যা নদীর করাল গ্রাসে ২০০ পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা নদীর ভাঙন রোধে এক বছর মেয়াদে ১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সে অনুযায়ী ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নদীর স্রোতধারা পরিবর্তনের জন্য সন্ধ্যা নদীর লস্করপুর নামক স্থানে খুলনা ড্রেজার ডিভিশনের মাধ্যমে ড্রেজিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম। কিন্তু প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও ওই কাজের তিন ভাগের এক ভাগও সমাপ্ত হয়নি। তবে সময়মতো বরাদ্দ না পাওয়ায় কার্যক্রম সঠিক সময়ে সম্পাদন করতে পারছেন না বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (অঃ দায়িত্বে) আব্দুস ছালাম ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. গোলাম নবী।
তাঁরা আরো জানান, এ যাবৎ মাত্র দুই কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছে। সে অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। খননকাজে নিয়োজিত ড্রেজার ডিভিশনের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৫০ মিটার প্রস্থের খননকাজ শেষের পথে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কার্যক্রম কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।
বড়াকোঠা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য মো. হারুন অর রশিদ জানান, ড্রেজিং কার্যক্রমের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। এভাবে চলতে থাকলে তিন বছরেও এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে না। অব্যাহত ভাঙনে চথলবাড়ী মডেল বাজার, তিনতলাবিশিষ্ট আব্দুল মজিদ বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চথলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দু্ইতলা বিশিষ্ট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পোস্ট অফিস, নারিকেলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি মসজিদ, নবনির্মিত উজিরপুর-সাতলা সড়কসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকার স্থাপনা যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে। সঠিক সময়ে উদ্যোগ না নিলে উজিরপুরের সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে নারিকেলী, চাউলাহার, সাকরাল, লস্করপুর, চথলবাড়ী, মালিকান্দাসহ পাঁচ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা আরো জানান, ড্রেজার কার্যক্রমের যেটুকু সরকারের বরাদ্দ হয়েছে, তা-ও সঠিকভাবে করছে না কর্তৃপক্ষ। নদীর বালু কেটে কোথায় রাখেন স্থানীয়রা জানেন না। আবার কিছু বালু রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বিক্রি করছে ড্রেজার কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্ধ্যা নদীর লস্করপুর এলাকায় বড় আকারে একটি ড্রেজার, পাশেই একটি আবাসিক লঞ্চ পানিতে ভাসছে। সারি সারি ড্রেজিং কার্যক্রমের যন্ত্রপাতি ও পাইপ পড়ে আছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ওই সময় কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
স্থানীয়রা আরো জানান, ওই প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নদীর মধ্যে অলস সময় পার করছেন। ভাঙনকবলিত মানুষরা জীবন-জীবিকার তাগিদে দিশাহারা হয়ে পড়ছেন। এদিকে খেয়াল নেই কারো।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দিপক রঞ্জন দাস জানান, আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত ভাঙন রোধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন এলাকাবাসী।
নগরকন্ঠ.কম/এআর